করোনার প্রথম রোগী কে ছিলেন !
স্টাফ রিপোর্টার:করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সৃষ্ট রোগ বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নিয়েছে। কথাটি পাঠকের অজানা নয়।
মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। ইতোমধ্যেই মারা গেছেন প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ।
ভাইরাসটি উহানের একটি মাছ-মাংসের বাজার থেকে ছড়িয়েছে বলে চীনের গবেষকরা জানিয়েছেন।
তবে সেখানে কে বা কারা প্রথম আক্রান্ত হয়েছে এ ব্যাপারে উহান কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যদিও প্রথম করোনা আক্রান্ত একজন নারীর তথ্য গণমাধ্যমের হাতে এসেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে, প্রথম করোনায় আক্রান্ত ৫৭ বছর বয়সি ওই নারীর নাম ওয়েই গুইজিয়ান।
প্রথম করোনা শনাক্ত রোগী হওয়ায় তাকে পেশেন্ট জিরো বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তিনি হুয়ানান সি-ফুড পাইকারি বাজারের চিংড়ি বিক্রেতা।
হুয়ানান বাজার থেকে আধা কিলোমিটার দূরে তিনি বাস করতেন।
ওই নারী প্রথম শারীরিক অসুস্থতা টের পান গত বছর ১০ ডিসেম্বর। প্রতিবছর এ সময় ফ্লু হওয়ায় তিনি ভেবেছিলেন এটাও স্বাভাবিক ফ্লু।
পরদিন তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে যান এবং সেখানকার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ইঞ্জেকশন নেন। কিন্তু এতে তার অবস্থার উন্নতি হয়নি।
চিকিৎসা নেওয়া শেষে তিনি আবার বাজারে ফিরে যান এবং নিয়মিত কাজে অংশ নেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তিনি আরো বড় হাসপাতালে যান।
ইলেভেনথ নামে উহানের ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার শরীরে কঠিন রোগ বাসা বাঁধছে বলে জানান।
তারা তাকে কিছু ওষুধ দেন। এতেও তিনি সুস্থ হননি।
বরং তার শরীর ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে। তৃতীয়বার পুনরায় তিনি হাসপাতালে ছুটে যান। তখনও চিকিৎসকরা বুঝতে পারেননি কী হতে চলেছে।
ফলে সাধারণ ফ্লু’র ওষুধই প্রয়োগ করা হয় তাকে।
ইতোমধ্যে শরীর অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়ায় ওয়েই গুইজিয়ান ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ শহরের সবচেয়ে বড় উহান ইউনিয়ন হাসপাতালে যান পরীক্ষার জন্য।ইতোমধ্যেই ওই হাসপাতালে একইরকম উপসর্গ নিয়ে আরো কয়েকজন রোগী আসেন। আশ্চর্যজনকভাবে তারাও আসেন ওই একই বাজার থেকে।
চীন প্রথম অফিসিয়ালি করোনা আক্রান্তের খবর প্রকাশ করে ৩১ ডিসেম্বর।
উহান মিউনিসিপ্যাল হেলথ কমিশন এক বিবৃতিতে ২৭ জন করোনা আক্রান্তের খবর প্রকাশ করে।
প্রথম আক্রান্ত ওই ২৭ জনের মধ্যেই ছিলেন ওয়েই গুইজিয়ান। এদের মধ্যে ২৪ জনই সরাসরি ওই বাজারের সাথে যুক্ত।
ওয়েই সে সময় জানিয়েছিলেন, প্রথমে সাধারণ ফ্লু ভেবেছিলাম, কিন্তু অন্যবারের চেয়ে শরীর অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
ইলেভেনথ হাসপাতালে কোনো রোগ শনাক্ত করতে না পারায় এবং অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় উহান ইউনিয়ন হাসপাতালে যাই।
সেখানে একই রোগে আক্রান্ত আরো অনেককে দেখতে পাই।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে ওয়েই গুইজিয়ানকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের পর জানুয়ারির প্রথম দিকে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান।
তার পরিবারের আরো তিন সদস্যও করোনা আক্রান্ত হয়। এছাড়া তার ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যেও করোনার সংক্রমণ ঘটে।
ওয়েই গুইজিয়ান দাবি করেন, বাজারে তারা যে প্রক্ষালন কক্ষ ব্যবহার করতেন সেখান থেকেই তিনি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
সরকার প্রথম দিকে আরো জোরালো পদক্ষেপ নিলে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যু দুটিই কমিয়ে আনা সম্ভব ছিল বলে মনে করেন গুইজিয়ান।
তবে পেশেন্ট জিরো নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রহস্যের ধুম্রজাল। সরকারি রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর।
ওই ব্যক্তির বয়স ছিল ৫৫ বছর। এমনটাই জানিয়েছে ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’।
No comments